ইংরেজি শেখার সহজ উপায়

ইংরেজি শেখার সহজ উপায়

Spread the love
Aziz Murad

আপনি কি ইংরেজি পড়তে বা বলতে গিয়ে সমস্যায় পরে যান? কিংবা লিখতে বা শুনে বুঝতে সমস্যা? আপনার কি ইংরেজিতে কিছু দেখলেই অস্বস্তি অনুভব হয়? আপনি কি নিজেকে ইংরেজি ভাষায় দক্ষ করে গড়তে চান?

যদি এগুলোর কোনোটার উত্তর হ্যাঁ-বোধক বা হ্যাঁ আর না এর মাঝে হয়ে থাকে, তাহলে কিছুটা সময় নিয়ে এই লেখাটি পড়ে ফেলুন। আশা করছি একটু হলেও উপকার পাবেন এখান থেকে।

প্রথমেই জানিয়ে রাখি, আমরা সবাই কমবেশি ইংরেজি ভাষা রপ্ত করতে গিয়ে কিছু না কিছু সমস্যার সম্মুখীন হই। তাই, হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না। নিচের দেয়া কয়েকটি পদ্ধতি থেকে আপনি আপনার মতো অনুসরণ করতে পারেন। তাহলেই ফলাফল দেখতে পারবেন। সবার একই পদ্ধতি কাজে নাও আসতে পারে, তাই আপনার যেটা অনুসরণ করার মতো সময় এবং ইচ্ছা আছে, সেটাই করুন।

প্রবল ইচ্ছাঃ

সবকিছুর আগে হচ্ছে, নিজের প্রবল ইচ্ছা আকাঙ্খা থাকতে হবে ইংরেজি ভাষাটি শেখার জন্য। আপনার যদি নিজে থেকে ইচ্ছেটা না আসে, তাহলে অন্য কেউ যতোই শিখানোর চেষ্টা  করুক কিংবা বলুক না কেন, ভাষা শেখাটা আসলে হয়ে উঠবে না। বরং কঠিন থেকে আরো কঠিনতর হয়ে যাবে এই পথটা।

আমাদের ইংরেজি ভাষা রপ্ত করার সময় মনে রাখা উচিত, এটা কেবলই একটা ভাষা। এটা বিজ্ঞান বা অর্থনীতির কোনো বিষয় না যে মুখস্থ করতে হবে। একটা ভাষা আয়ত্তে আনার মূল উপকরণ হচ্ছে চর্চা। ঠিকমতো চর্চা করলে ইংরেজি ভাষাতে আপনি সহজেই পারদর্শী হয়ে যেতে পারবেন।

পরিকল্পিত প্লানঃ 

এরপর দরকার একটা প্ল্যান বা রুটিনের। আপনি কি চান এই কাজটা করে বা আপনার গন্তব্য কোন জায়গায় তা ঠিক করতে হবে। ছোট কোনো লক্ষ্য হলেও তা ঠিক করতে হবে। নিয়মিত চর্চা করতে হবে; হোক সেটা পনেরো মিনিট কিংবা আধা ঘণ্টা কিন্তু তা একটা রুটিন অনুযায়ী হতে হবে। একদিন প্র্যাকটিস করে, দুই সপ্তাহ কোনো খবরই নেই, এমন হলে এই পথটা অনেক কঠিন হয়ে যাবে।

গ্রামার চিন্তা বাদঃ

গ্রামার রুলের চিন্তা আপাতত বাদ দিয়ে দিন। গ্রামার দরকার আছে। সবকিছুতেই গ্রামার আছে কিন্তু আমরা যখন শুধু গ্রামার নিয়েই চিন্তা করি, তখন আমাদের নতুন একটা ভাষা আয়ত্তে আনার প্রক্রিয়াটা কঠিন হয়ে যায়। অনেকেরই মাথায় ঘুরে, “এখানে am হবে নাকি is?”, “to এর পর তো infinitive হয়, তাহলে এখানে verb-ing কেন বসলো?”, ইত্যাদি। এরকম অনেক গ্রামার রুল্স নিয়ে আমরা শুধু ভাবতেই থাকি। ফলাফল স্বরুপ আমরা আমাদের লক্ষ্য/উদ্দেশ্য থেকে অনেক দূরে রয়ে যাই।

 

অন্যদের নিয়ে ভাবা বাদ দিতে হবে। কে কি বললো, কে কি ভাবলো, ভুল বললে আমাকে কি ভাববে, ইত্যাদি চিন্তা মাথা থেকে পুরোপুরি দূরে রাখতে হবে। তাহলেই আপনি সফলতার মুখ দেখতে পারবেন। যে আপনাকে কোনো ধরনের উপকার না করে উল্টো অনুৎসাহিত করে, আপনি কেন এরকম মানুষের কথায় হাল ছেড়ে দিবেন বা কষ্ট পাবেন? নিজের সফলতার জন্য নিজেকেই, একা হলেও, এগিয়ে যেতে হবে।

ভোকাবুলারি বিষয়ঃ 

অনেকেই শুধু ‘ভোকাবুলারি ভোকাবুলারি’ করি। এটাও করা যাবে না। শুধু নতুন শব্দ প্রতিদিন ১৫-২০ টা করে মুখস্থ করে লাভ নেই যদি না আপনি ওসব শব্দ সঠিক জায়গায় সঠিক সময়ে ব্যবহার করতে পারেন। তাই নতুন শব্দের মানে দেখার সাথে সাথে, নিজে ঐ শব্দ দিয়ে দুটো করে বাক্য তৈরি করে ফেলুন। ঐ শব্দগুলোর লিস্টটিতে আবার দুইদিনের মাঝে চোখ বুলান। আমাদের ব্রেইনকে একই জিনিস কয়েকবার দেখাতে হয় মনে রাখানোর জন্য।

একটা একটা করে শব্দ মনে রাখার পাশাপাশি, ‘phrases’-ও মনে রাখার চেষ্টা করুন। শব্দের পাশাপাশি ‘phrases’-ও শিখুন। Phrases কঠিন কিছুই না; শব্দগুচ্ছকে phrases বলে। একই শব্দের ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন অর্থ হতে পারে। সেই জন্য শব্দ গুচ্ছ ধরে প্র্যাকটিস করুন।

রিডিংয়ে ভালো করতে চাইলে, বুঝে বুঝে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শুধু চোখ দিয়ে পড়ে গেলেই যদি সঠিক অর্থ বুঝতে পারতাম আমরা সবাই, তাহলে আমাদের ইংরেজি ভাষাতে পারদর্শী হওয়ার পথটি অনেকটাই সহজ হতো। আপনার যে ধরনের বই পড়তে ভালো লাগে, তাই দিয়ে শুরু করুন। আগে বই পড়ার অভ্যাসটা হয়ে গেলে তখন খুব সহজেই যে কোনো কঠিন থেকে কঠিন বই পানি হয়ে যাবে আপনার জন্য।

রিডিং পড়ার অভ্যাসঃ

পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা সবার জন্যই অনেক জরুরি। যার ইংরেজি পড়ার অভ্যাস একবার হয়ে যায়, সে খুব সহজেই এই ভাষাতে পারদর্শী হয়ে উঠতে পারবে। এই অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য নিয়মিত কিছু না কিছু পড়তে হবে। ওটা আপনার একাডেমিক বই-ও হতে পারে কিংবা নন-একাডেমিক। হতে পারে কোনো পত্রিকা বা ম্যাগাজিনও।

কোনো গল্প বা আর্টিকেল পড়ার পর, বা কোনো খবর দেখার পর তা নিজের মতো করে বলার চেষ্টা করুন। বুঝার ক্ষমতাটাও যাচাই করতে পারবেন, সাথে স্পিকিংটাও প্র্যাকটিস হয়ে যাবে।

ইংরেজি ছোট গল্প বা আর্টিকেল মাঝে মাঝে একটু জোরে আওয়াজ করে পড়বেন। এতে করে আপনার উচ্চারণ শুদ্ধ হবে। নিজেই নিজের উচ্চারণের ঘাটতির জায়গাগুলো খুঁজে পাবেন এবং ঠিক করতে পারবেন। কোনো শব্দের উচ্চারণ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগলে, অনলাইন ডিকশনারিতে শব্দটি খুঁজে দেখুন এবং সঠিক উচ্চারণটি শুনুন।

লিসেনিং দক্ষতাঃ 

ইংরেজি শোনার দক্ষতা আমরা অনেকেই বাড়াতে চাই। এটার জন্য কি করতে পারি আমরা তা ঠিকমতো বুঝে উঠি না সময় থাকতে। প্রথমেই ইংরেজি অডিও শোনার অভ্যাস করতে হবে। পডকাস্ট শোনা যেতে পারে। অনলাইনে অহরহ পাওয়া যায়। বিভিন্ন অ্যাপও আছে গুগল প্লে-স্টোরে। আরো একটা পদ্ধতি হচ্ছে, ভিডিওর বক্তার কথা বলার ধরন, উচ্চারণ, ইত্যাদি অনুকরণ করা এবং নিজে নিজে বলা। এভাবে শোনার দক্ষতা এবং উচ্চারণ, দুটোরই উন্নতি ঘটবে।

স্পিকিং স্কিলঃ

স্পিকিং নিয়ে জড়তা বা ভয় কাজ করে না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অনেকেই ভাবি স্পিকিং চর্চার জন্য পার্টনার আবশ্যক। সত্যিটা একটু ভিন্ন। কারো যদি পার্টনার না থাকে, তাহলে সে কি স্পিকিংয়ে কখনো ভালো হতে পারবে না? আসলে, অবস্থা বুঝে ব্যবস্হা নিতে হবে। পার্টনার থাকলে ভালো, নয়তো নিজে নিজেই প্র্যাকটিস করতে হবে। আয়নার সামনে দাড়ায়ে আমরা কথা বলতে পারি।আমরা ভাবতে পারি আমাদের সামনে অন্য মানুষজন আছে যারা আমার বক্তব্য শুনবে। সদস্যদের সাথে কিংবা বন্ধুদের সাথে অল্প সময়ের জন্য হলেও স্পিকিং প্র্যাকটিস করতে পারি।

error: Content is protected !!
ফ্রি ইংলিশ লাইব্রেরী।Visit Now